
ইদানিং রিপোর্টঃ- ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে দেশব্যাপী ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করা একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের অন্যতম হোতা পুলিশের চাকরিচ্যুত মো. লিমন মিয়া (৩৪) এবং তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) গ্রেফতার হন। লিমনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামে এবং সাকার বাড়ি একই উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে। জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন। সিডিএমএস যাচাইয়ে লিমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সূত্র ধরে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। তিনি খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রঘুনন্দনপুর এলাকার মাজেদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এ সময় তার হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করা একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা ওই এলাকায় ডাকাতি করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। জাহাঙ্গীরও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরি করে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, এই চক্রের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর তদন্ত, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।