
ইদানিং রিপোর্টঃ- পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওমর আলীকে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। ফরিদপুর পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম বুধবার সকাল ১১টায় ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, গত ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের ঘাসের ক্ষেত থেকে কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ৫ জানুয়ারি বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ওপর ন্যস্ত করা হয়। পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম আরো জানান, মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. নজরুল ইসলাম (৪৮)-কে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত ৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, প্রতিবেশী দুই গৃহবধূর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ওমর আলী। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ওমর আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এজন্য তাকে হত্যার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোর ওমর আলীকে ১লা জানুয়ারি রাতে তাকে ধরে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে তাকে নির্যাতন করে একটি বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ পাশের একটি ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখেন তারা। পরে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পিবিআই পুলিশ সুপার আরো বলেন, মামলাটির তদন্তে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত এবং আসামির জবানবন্দি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন কৌশল ও সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।