
তামিম ইসলামঃ- শরতের শুভ্রতায় যে কাশবন সেজে উঠেছিল সদরপুর উপজেলার ২ নম্বর আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বুকে, মানুষের অসচেতনতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে এখন তা রূপ হারিয়ে ধ্বংসের পথে। অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের নামে দর্শনার্থীদের ফুল ছেঁড়া ও অবাধ বিচরণের ফলে এক সময়ের ধবধবে সাদা গালিচার মতো বিস্তৃত কাশবন এখন প্রায় কাশফুল শূন্য হতে চলেছে।
৫ অক্টোবর (সোমবার) বিকেল সাড়ে তিনটায় সরেজমিনে পদ্মার চরে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। শরতের নীল আকাশ আর শান্ত বাতাসে যেখানে দুলছিল হাজারো কাশফুল, সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে প্রকৃতির ওপর চলছে চরম তাণ্ডব। বিকেলের দিকে অন্তত আড়াই হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই চরে। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার বদলে অনেককেই দেখা যায় নিজেদের ইচ্ছেমতো হাত দিয়ে কাশফুল ছিঁড়তে ও গাছ ভেঙে ফেলতে। অতিরিক্ত মানুষের সমাগম এবং যত্রতত্র পাড়া-পিছলানোর ফলে বড় একটি অংশ কাশফুল শূন্য ও লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুর সদর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী শামীম রানা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকে ও ছবিতে এই চরের যে অপরূপ রূপ দেখেছিলাম, বাস্তবে এসে দেখছি মানুষের অসচেতনতা সেই সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে। সবাই যদি এভাবে ফুল ছিঁড়ে আর গাছ মাড়ায়, তবে এই প্রকৃতি টিকে থাকবে কীভাবে?”
আরেক দর্শনার্থী মিম বাইজিদ বাঁধন বলেন, “পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সুন্দর কিছু সময় কাটাতে এসেছিলাম। কিন্তু মানুষের এমন উদাসীন ও অসচেতন আচরণ দেখে খুবই কষ্ট লাগছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করার একটা সুস্থ সংস্কৃতি থাকা দরকার।”
প্রকৃতির এমন ক্ষতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দর্শনার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা সৌন্দর্য দেখতে আসি, কিন্তু গিয়ে রেখে আসি ধ্বংসস্তূপ। মানুষের এই অসাবধানতা ও সচেতনতার অভাব পুরো পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বা অন্তত কোনো সতর্কতামূলক নির্দেশনা থাকা উচিত।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, বসতি স্থাপন ও কৃষিকাজের বিস্তারের কারণে এমনিতেই সদরপুর থেকে কাশবন হারিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর পদ্মার চরে নতুন করে ফুটে ওঠা এই সৌন্দর্য রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ না নিলে খুব দ্রুতই তা চিরতরে হারিয়ে যাবে। প্রকৃতির এই অনন্য দান ও সম্ভাব্য বিনোদনকেন্দ্রটি টিকিয়ে রাখতে দর্শনার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন বলেন, “প্রকৃতির এই রূপ ও কাশবন আমাদের সকলের সম্পদ, তাই এটি রক্ষা করা সবার নাগরিক দায়িত্ব। দর্শনার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, প্রয়োজনে আমরা সেখানে তদারকির ব্যবস্থা নেব।