০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ Time View

ইদানিং রিপোর্টঃ- ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ‌ যৌন নিপীড়নের দায়ে কবিরাজ মো. হানিফ শেখ (৫১)-কে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হানিফ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নিজ বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ঝাড়ফুঁক করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ‌ ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ঝাড়ফুঁক করানোর জন্য হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। ওই দিন ঝাড়ফুঁক করার পরদিন আবারও একই কথা বলে কিশোরীকে তার ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে তিনি তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌ* ন* নিপীড়ন করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ শিশুটির বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌ* ন* নিপীড়ন একটি জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।

Tag :
About Author Information

MD AKTAR UZZAMAN

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল চালক নিহত

ফরিদপুরে কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইদানিং রিপোর্টঃ- ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ‌ যৌন নিপীড়নের দায়ে কবিরাজ মো. হানিফ শেখ (৫১)-কে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হানিফ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নিজ বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ঝাড়ফুঁক করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ‌ ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ঝাড়ফুঁক করানোর জন্য হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। ওই দিন ঝাড়ফুঁক করার পরদিন আবারও একই কথা বলে কিশোরীকে তার ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে তিনি তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌ* ন* নিপীড়ন করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ শিশুটির বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌ* ন* নিপীড়ন একটি জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।