১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

ইদানিং রিপোর্টঃ- হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে এবং সংগঠনটির সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ১১-৩০ মিনিটে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের মরহুম এডভোকেট ‌ শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল এর সঞ্চালনায় এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ মোল্লা হেযবুত তওহীদের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশ থেকে উৎখাতের হুমকিসহ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ইন্ধনে এর আগে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় দুজন সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে সংগঠনটির হাজার হাজার সদস্যের পাশাপাশি নোয়াখালীতে তাদের স্কুল, হাসপাতাল, খামার, পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণভাবে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় শতাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি বলে তারা দাবি করেন। তারা বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, প্রচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তাই হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ধর্মীয় অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা। বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তারা। এ সময় ‌ ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ‌ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ‌।

Tag :
About Author Information

MD AKTAR UZZAMAN

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের নকশি কাঁথার ক্যাশিয়ারের পরলোকগমন

ফরিদপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ১০:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইদানিং রিপোর্টঃ- হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে এবং সংগঠনটির সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ১১-৩০ মিনিটে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের মরহুম এডভোকেট ‌ শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল এর সঞ্চালনায় এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ মোল্লা হেযবুত তওহীদের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশ থেকে উৎখাতের হুমকিসহ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ইন্ধনে এর আগে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় দুজন সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে সংগঠনটির হাজার হাজার সদস্যের পাশাপাশি নোয়াখালীতে তাদের স্কুল, হাসপাতাল, খামার, পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণভাবে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় শতাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি বলে তারা দাবি করেন। তারা বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, প্রচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তাই হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ধর্মীয় অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা। বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তারা। এ সময় ‌ ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ‌ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ‌।