১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

ইদানিং রিপোর্টঃ- ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাসভবন ‘কামরাঙ্গা’য় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বাসার বৈদ্যুতিক তার, গ্যারেজের তার এবং দুটি স্প্লিট এসির অভ্যন্তরের তামার তার কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন গুণী এই শিল্পী।

জানা গেছে, পেশাগত কারণে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মাসে এক-দুইবার ফরিদপুরের পৈতৃক বাড়িতে আসেন ফজলুর রহমান বাবু। সোমবার রাতে ঢাকায় অবস্থানরত এই অভিনেতা নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবহিত করেন এবং এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, চোরেরা পুরো বাসার বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যারেজের তার কেটে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বাসার ফ্রিজে থাকা খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা দুটি স্প্লিট এসির বিভিন্ন অংশ নষ্ট করে ভেতরের সব তামার তার কেটে নিয়ে গেছে। ফজলুর রহমান বাবু জানান, প্রায় ছয়-সাত মাস আগেও একইভাবে তাঁর বাসার বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়েছিল চোরেরা। তিনি বলেন, “শুধু আমার বাসাতেই নয়, আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই নিয়মিত এসি, তার ও গ্যারেজের সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। একসময় পশ্চিম আলীপুর অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে চোর চক্রের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতেও সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে তার কাটতে গিয়ে ‘স্বপন’ নামে এক চোর হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং চুরির সত্যতা স্বীকার করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল পুলিশি তদারকি দিয়ে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এলাকাকে নিরাপদ করতে মাদকসেবীদের দমন এবং চুরি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

MD AKTAR UZZAMAN

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের নকশি কাঁথার ক্যাশিয়ারের পরলোকগমন

ফরিদপুরে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি

Update Time : ০৪:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইদানিং রিপোর্টঃ- ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর পৈতৃক বাসভবন ‘কামরাঙ্গা’য় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বাসার বৈদ্যুতিক তার, গ্যারেজের তার এবং দুটি স্প্লিট এসির অভ্যন্তরের তামার তার কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন গুণী এই শিল্পী।

জানা গেছে, পেশাগত কারণে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মাসে এক-দুইবার ফরিদপুরের পৈতৃক বাড়িতে আসেন ফজলুর রহমান বাবু। সোমবার রাতে ঢাকায় অবস্থানরত এই অভিনেতা নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবহিত করেন এবং এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, চোরেরা পুরো বাসার বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যারেজের তার কেটে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বাসার ফ্রিজে থাকা খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা দুটি স্প্লিট এসির বিভিন্ন অংশ নষ্ট করে ভেতরের সব তামার তার কেটে নিয়ে গেছে। ফজলুর রহমান বাবু জানান, প্রায় ছয়-সাত মাস আগেও একইভাবে তাঁর বাসার বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়েছিল চোরেরা। তিনি বলেন, “শুধু আমার বাসাতেই নয়, আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই নিয়মিত এসি, তার ও গ্যারেজের সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। একসময় পশ্চিম আলীপুর অত্যন্ত শান্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে চোর চক্রের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতেও সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে তার কাটতে গিয়ে ‘স্বপন’ নামে এক চোর হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং চুরির সত্যতা স্বীকার করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল পুলিশি তদারকি দিয়ে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এলাকাকে নিরাপদ করতে মাদকসেবীদের দমন এবং চুরি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।